রহমত নিউজ 30 August, 2025 08:32 PM
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও শাপলা স্মৃতি সংসদের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, “শাপলা চত্বরের রক্তের স্রোতেই চব্বিশের চেতনার ধারা শুরু হয়েছে। জুলাই ঘোষণাপত্রে শাপলার কথা আসেনি—এই দায় যেমন ড. ইউনুস সাহেবকে নিতে হবে, তেমনি পুরো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও নিতে হবে।
তিনি বলেন, শাপলার চেতনাকে আগামীর বাংলাদেশের মাইলফলক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই শাপলা স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শাপলার শহীদ পরিবারের অভিভাবকত্ব গ্রহণের জন্য গঠিত হয়েছে শাপলা শহীদ গার্ডিয়ান্স ফোরাম। আগামীর বাংলাদেশে জুলাইকে মূল্যায়ন করা মানেই শাপলাকেও মূল্যায়ন করা।
শনিবার ( ৩০ আগষ্ট) বিকেল ৪টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত “শাপলা কেন্দ্রীক বিভিন্ন কাজে অংশীজনের সম্মাননা ও সম্মিলনী–২০২৫” অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্য দেন নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী। অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দীন, মাওলানা আল আবিদ শাকির ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাগর।
আলোচকবৃন্দ বলেন, শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই ইতিহাস গোপন করার অপচেষ্টা বিগত এক যুগ ধরে চললেও শাপলার রক্ত শহীদদের ত্যাগকে চিরজীবন্ত করে রেখেছে। শাপলা স্মৃতি সংসদ আগামী প্রজন্মের কাছে এই সত্য তুলে ধরতে অটল থাকবে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর) বলেন, শাপলার শহীদরা আমাদের ঈমানি শক্তির প্রতীক। তাদের আত্মত্যাগকে ধারণ করেই ইসলামী আন্দোলন এগিয়ে যাবে।
জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি আব্দুল হালিম বলেন, বিগত পনেরো বছরে বাংলাদেশের আলেম সমাজকে ভিন্নভাবে চিত্রিত করা হয়েছে। এখন তা পাল্টে গেছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, শাপলার ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার ঘটনা। ’৭২-এর পর থেকে দেশের চালক পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সংবিধান পরিবর্তন না হলে আবারো শাপলা ফিরে আসবে, আবারো ১৮ ফিরে আসবে, আবারো ২৪ ফিরে আসবে।
বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন বলেন, ইসলামের তাহযিব ও তামাদ্দুন রক্ষায় আপনাদের বজ্রকণ্ঠ যতদিন থাকবে, ততদিন এদেশে ইনসাফ থাকবে। ভিপি নূরের রক্ত বৃথা গেলে আগামীতে দাড়ি-টুপি ওয়ালাদের জন্যও অপমান অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, শাপলা শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন করা এখন জরুরি দায়িত্ব।
দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শিব্বির মাহমুদ বলেন, মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দিগন্ত শাপলার সত্য তুলে ধরেছিল। এর জন্য আজকের এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য গৌরবের।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ও উপস্থিত ছিলেন—দৈনিক আমার দেশ-এর ম্যানেজিং এডিটর জাহিদ চৌধুরী, বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জয়নুল আবেদীন মিসবাহ, চট্টগ্রাম কোর্টের অতিরিক্ত পিপি রিয়াদ উদ্দীন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা বশিরউল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম, লেখক গবেষক মাওলানা মনযুর আহমদ, মাওলানা আলী হাসান তৈয়্যব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, যুব মজলিস সভাপতি জাহিদুজ্জামান, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দীকি, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা জাকির হোসাইন, মাওলানা আফসার মাহমুদ, ফাতেহ সোলায়মান, সাখাওয়াত হোসাইন, মুফতি সাঈদ আহমদ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, ইবরাহীম জামিল, মাওলানা আব্দুল হক শামীম প্রমুখ।
সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান:
অনুষ্ঠানে ২০১৩ সালের শাপলা গণহত্যার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, হতাহতদের চিকিৎসা সেবা, আইনি সহায়তা ও মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখার জন্য প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয় আলজাজিরা, দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ও হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরকে (২০১৩ সালের কমিটি)।
এছাড়াও গণমাধ্যম, আইন ও মানবাধিকার, চিকিৎসা সেবা, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং পুনর্বাসন সহায়তা খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশ জনকে ব্যক্তি পর্যায়ে সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন শাপলা চত্বরে শহীদ হওয়া জনাব মতিউর রহমান, শহীদ মুক্তার মিয়া ও শহীদ ইউনুছ আলীর গর্বিত পিতাগণ।
বক্তারা বলেন, শাপলা গণহত্যার সত্য ইতিহাস জাতির সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতীয় ইতিহাসে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব।